সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে আর্থিক প্ল্যাটফর্ম
এক্স-মানি: ডিজিটাল অর্থনীতির নতুন অধ্যায়
একটি অ্যাপ, একটি নতুন অর্থনৈতিক ধারণা
ইলন মাস্ককে বর্তমান সময়ের অসাধারণ উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা এবং দূরদর্শী চিন্তাবিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। টেসলার দ্বারা বৈদ্যুতিক গাড়িকে
যুগান্তকারী আবিস্কার, স্পেসএক্সের মাধ্যমে মহাকাশ প্রযুক্তির ব্যয় নাটকীয়ভাবে কমিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেটের যুগের সূচনা, স্টারলিংকের মাধ্যমে স্যাটেলাইটভিত্তিক বৈশ্বিক ইন্টারনেট সেবা প্রতিটি উদ্যোগই দেখিয়েছে যে তিনি প্রচলিত সীমাবদ্ধতার বাইরে চিন্তা করতে অভ্যস্ত। সেই
ধারাবাহিকতায় এক্স-মানি-ও কেবল একটি নতুন পেমেন্ট সেবা নয়; বরং একটি বৃহত্তর ডিজিটাল অর্থনৈতিক অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। যদি এই উদ্যোগ তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে মানুষ সামাজিক যোগাযোগ, ব্যবসা, ডিজিটাল পেমেন্ট, কনটেন্ট থেকে আয় এবং অন্যান্য আর্থিক সেবা একই প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন করতে পারবে। ইলন মাস্কের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কার নয়; বরং বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন প্রযুক্তিকে একত্র করে এমন একটি বাস্তবসম্মত ইকোসিস্টেম তৈরি করা, যা মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে বদলে দিতে পারে।
২০২২ সালে ইলন মাস্ক যখন প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলারে টুইটার অধিগ্রহণ করেন এবং পরবর্তীতে এর নাম পরিবর্তন করে এক্স রাখেন, তখন অনেকেই এটিকে শুধুমাত্র একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মালিকানা পরিবর্তন হিসেবে দেখেছিলেন। কিন্তু মাস্কের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছিল আরও বিস্তৃত। তাঁর লক্ষ্য ছিল এমন একটি “এভরিথিং অ্যাপ” তৈরি করা, যেখানে একজন ব্যবহারকারী যোগাযোগ, বিনোদন, ব্যবসা, কেনাকাটা এবং আর্থিক লেনদেন সবকিছু একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে করতে পারবেন। এই ধারণার কেন্দ্রবিন্দুতেই রয়েছে “এক্স-মানি” একটি ডিজিটাল পেমেন্ট ও আর্থিক সেবা ব্যবস্থা, যা ভবিষ্যতে এক্স প্ল্যাটফর্মকে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেমে পরিণত করার চেষ্টা করবে।
এক্স-মানি আসলে কী?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, এক্স-মানি হলো এক্স প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত একটি ডিজিটাল ওয়ালেট ও পেমেন্ট অবকাঠামো। এটি প্রচলিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মতো শুধু টাকা পাঠানো বা বিল পরিশোধের একটি মাধ্যম নয়। একটি পরিপূর্ণ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেম যার মূল লক্ষ্য হলো ব্যবহারকারীর ডিজিটাল জীবনকে সকল প্রকার আর্থিক কর্মকা- যেমন ব্যাংকিং, ঋণ প্রাপ্তি, উত্তোলন, ক্রয় ও পারস্পরিক লেনদেন নিশ্চিত করা। একজন ব্যবহারকারী ভবিষ্যতে এক্স-মানি এর মাধ্যমে অন্য ব্যবহারকারীকে টাকা পাঠাতে পারবেন, ব্যবসায়ীর কাছ থেকে পণ্য বা সেবা কিনতে পারবেন, কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে অর্থ প্রদান করতে পারবেন, নিজের কনটেন্ট থেকে আয় গ্রহণ করতে পারবেন, আন্তর্জাতিক লেনদেন করতে পারবেন, এবং ভবিষ্যতে বিভিন্ন আর্থিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
এক্স-মানি একটি ডিজিটাল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মতো তৈরি করবে, যদিও এটি প্রচলিত অর্থে একটি ব্যাংক হিসাব নয়। ব্যবহারকারীদের আমানত সংরক্ষণ করবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিভিত্তিক ক্রস রিভার ব্যাংক। এই আমানত ফেডারেল ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (এফডিআইসি) এর আওতায় সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বীমা সুরক্ষা পাবে। বর্তমান মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণত গ্রাহকদের জমাকৃত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র আমানত নিজেদের কাস্টডিতে সংরক্ষণ করে এবং সেই তহবিল পরিচালনা করে। এক্স-মানি-এর ধারণা হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এক্স-মানি গ্রাহকের জমাকৃত অর্থ নিজস্ব কাস্টডিতে ধরে রাখবে না। বরং গ্রাহকের অর্থ গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট ক্রস রিভার ব্যাংক নির্ধারিত অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। গ্রাহকের অর্থের কাস্টডি ও নিরাপত্তার দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে ব্যাংকের ওপর ন্যস্ত থাকবে। এতে গ্রাহকের তহবিলের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে এবং এক্স-মানি মূলত একটি নিরাপদ পেমেন্ট ও ট্রান্সফার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে, আমানত গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়।
ইলন মাস্ক কেন পেমেন্ট ব্যবসায় প্রবেশ করছেন?
ইলন মাস্ক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর দৈনন্দিন জীবনের কাজগুলোকে একটি একক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসতে চান। চীনের “উইচ্যাট পে” এবং “আলী পে” দেখিয়েছে যে একটি সামাজিক ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কীভাবে আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশাল অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে। ইলন মাস্কের কথা হলো, বর্তমানে একজন ব্যবহারকারী যোগাযোগের জন্য একটি অ্যাপ, পেমেন্টের জন্য আরেকটি অ্যাপ, কেনাকাটার জন্য অন্য একটি প্ল্যাটফর্ম, বিনোদনের জন্য ভিন্ন আরেকটি মাধ্যম ব্যবহার করেন। এক্স-এর মাধ্যমে তিনি এই বিচ্ছিন্ন উপযোগ সমূহকে একটি একক প্ল্যাটফর্মে আনতে চান।
এক্স-মানি এর পেমেন্ট ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করবে?
একজন ব্যবহারকারী প্রথমে এক্স অ্যাকাউন্টের সঙ্গে নিজের পরিচয় যাচাই করবেন। এরপর তিনি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ডেবিট কার্ড, ভিসা কার্ড, অনুমোদিত পেমেন্ট মাধ্যম সংযুক্ত করতে পারবেন। তারপর তিনি এক্স-মানি ওয়ালেট-এ অর্থ যোগ করতে পারবেন। এক্স-মানি-এর একজন সাবস্ক্রাইবার তাঁর বিদ্যমান ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে সহজেই তাঁর এক্স-মানি অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স স্থানান্তর (অ্যাড মানি) করতে পারবেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত অর্থ যেমন মাসিক বেতন, ব্যবসায়িক আয়, ফ্রিল্যান্স আয়, কমিশন, ভাতা বা অন্য যেকোনো বৈধ অর্থপ্রাপ্তি সরাসরি তাঁর এক্স-মানি অ্যাকাউন্টে গ্রহণ করতে পারবেন। বর্তমানে যে অর্থ সাধারণত সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়, এক্স-মানি-এর মাধ্যমে সেই অর্থও সরাসরি ব্যবহারকারীর এক্স-মানি অ্যাকাউন্টে ক্রেডিট করা যাবে। অর্থ প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে তা ব্যবহারকারীর এক্স-মানি ব্যালেন্সে যুক্ত হবে এবং একই সঙ্গে নির্ধারিত পার্টনার ব্যাংকে সংরক্ষিত সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও প্রতিফলিত হবে।
এক্স-মানি এবং বিকাশ, নগদ বা অন্যান্য এমএফএস-এর পার্থক্য
বাংলাদেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসগুলো মূলত মানুষের দৈনন্দিন অর্থ লেনদেন সহজ করেছে। বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো সেবাগুলো টাকা পাঠানো, ক্যাশ ইন, ক্যাশ আউট, বিল পেমেন্ট, মার্চেন্ট পেমেন্ট করে থাকে। অন্যদিকে এক্স-মানি-এর লক্ষ্য আরও বিস্তৃত। এটি সামাজিক যোগাযোগ, ডিজিটাল পরিচয়, আন্তর্জাতিক লেনদেন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম একত্রিত করার চেষ্টা করবে।
ডিপোজিট সংগ্রহ (ডিপোজিট মোবিলাইজেশন)-কে আরও আকর্ষণীয় করতে এক্স-মানি ঘোষণা করেছে যে, তাদের প্রিমিয়াম সাবসক্রাইবারদের জন্য বার্ষিক সর্বোচ্চ ৬% রিটার্ন প্রদান করা হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ প্রচলিত ব্যাংক সেভিংস বা ডিপোজিটের ওপর সাধারণত ৩% থেকে ৪% পর্যন্ত সুদ প্রদান করে। সেই প্রেক্ষাপটে ৬% পর্যন্ত রিটার্ন নিঃসন্দেহে একটি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রস্তাব, যা গ্রাহকদের জন্য এক্স-মানি-কে একটি আকর্ষণীয় ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মে পরিণত করতে পারে। তবে এক্স-মানি-এর এই উচ্চতর রিটার্নের দর্শন (ফিলোসোফি) প্রচলিত ব্যাংকিং মডেল থেকে ভিন্ন। এই ৬% সম্পূর্ণটাই ব্যাংক ডিপোজিটের সুদ নয়। বরং এটি দুটি পৃথক আয়ের উৎসের সমন্বয়ে গঠিত। প্রথমত, গ্রাহকের আমানত পার্টনার ব্যাংকে সংরক্ষিত থাকবে এবং সেখান থেকে প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার আওতায় প্রাপ্ত সুদ ধরা যাক প্রায় ৩% গ্রাহক পাবেন। দ্বিতীয়ত, এক্স-মানি প্ল্যাটফর্ম বা এক্স হ্যান্ডল-এর মাধ্যমে সংঘটিত পেমেন্ট, লেনদেন, মার্চেন্ট সার্ভিস, ডিজিটাল আর্থিক সেবা এবং অন্যান্য আয়-উৎস থেকে যে রাজস্ব সৃষ্টি হবে, তার একটি অংশ এক্স-মানি তার প্রিমিয়াম সাবসক্রাইবারদের সঙ্গে রেভিনিউ শেয়ারিং মডেলের ভিত্তিতে ভাগ করে নেবে। এই অংশ থেকে অতিরিক্ত প্রায় ৩% পর্যন্ত রিটার্ন প্রদান করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রিমিয়াম সাবসক্রাইবারদের মোট সম্ভাব্য ৬% রিটার্নের একটি অংশ আসবে ব্যাংক ডিপোজিটের স্বাভাবিক সুদ থেকে এবং অবশিষ্ট অংশ আসবে এক্স-মানি-এর ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের বাণিজ্যিক সাফল্যে অংশীদার হওয়ার মাধ্যমে। এই কাঠামো গ্রাহকদের শুধু আমানতকারী হিসেবেই নয়, বরং এক্স-মানি ইকোসিস্টেমের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অংশীদার হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করবে। ফলে গ্রাহকের আয় কেবল ব্যাংকের সুদের ওপর নির্ভর করবে না; বরং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার ও রাজস্ব বৃদ্ধির সঙ্গে তার সম্ভাব্য রিটার্নও বৃদ্ধি পেতে পারে। এ কারণেই এক্স-মানি-এর ডিপোজিট মডেল প্রচলিত ব্যাংকিং ধারণা থেকে ভিন্ন, অধিক উদ্ভাবনী এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি মূল্যপ্রস্তাব (ভ্যালু প্রোপোজিশন) হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এফডিআইসি সুরক্ষা: গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা
যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক ব্যবস্থায় গ্রাহকের আস্থার অন্যতম ভিত্তি হলো ফেডারেল ডিপোজিট ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন (এফডিআইসি)। এক্স-মানি-এর ক্ষেত্রে ক্রশ রিভার ব্যাংক-এর মাধ্যমে রাখা আমানত এফডিআইসি বীমার আওতায় থাকবে। এর অর্থ হলো, কোনো কারণে ব্যাংক ব্যর্থ হলে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত গ্রাহকের আমানত সুরক্ষিত থাকবে। বর্তমান কাঠামো অনুযায়ী এই সীমা প্রতি আমানতকারীর জন্য সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার। এটি এক্স-মানি-কে সাধারণ প্রযুক্তিভিত্তিক ওয়ালেটের তুলনায় একটি বেশি নিয়ন্ত্রিত আর্থিক কাঠামো প্রদান করে।
৬ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা
এক্স-মানি-এর অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো ব্যবহারকারীদের আমানতের ওপর সম্ভাব্য উচ্চ রিটার্ন। প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা বার্ষিক সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত এপিওয়াই (অ্যানুয়্যাল পারসেন্টেজ ইল্ড) পেতে পারেন। এটি যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রচলিত সঞ্চয়ী হিসাবের তুলনায় আকর্ষণীয়। তবে এই সুবিধা সবার জন্য একইভাবে প্রযোজ্য নয়। প্রিমিয়াম প্লাস গ্রাহকেরা সরাসরি এই সুবিধা পেতে পারেন, আর প্রিমিয়াম গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হতে পারে, যেমন সরাসরি বেতন জমা।
এক্স-মানি কী ভবিষ্যতের ব্যাংকিং পরিবর্তন করবে?
এক্স-মানি এর গুরুত্ব শুধু একটি নতুন পেমেন্ট সেবা হিসেবে নয়; বরং এটি একটি বৃহত্তর পরিবর্তনের ইঙ্গিত। আগামী দিনের অর্থনীতি সম্ভবত এমন হবে যেখানে সামাজিক যোগাযোগ, বাণিজ্য এবং আর্থিক সেবা একে অপরের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হবে। ইলন মাস্কের এক্স-মানি সেই ভবিষ্যতের একটি পরীক্ষামূলক মডেল। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে তিনটি বিষয়ের ওপর, যথা ব্যবহারকারীর আস্থা, নিয়ন্ত্রক গ্রহণযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থায়িত্ব। যদি এক্স-মানি এই তিনটি ক্ষেত্রে সফল হতে পারে, তাহলে এটি শুধু এক্স-এর ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ নয়, ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়ে উঠতে পারে। যদি এক্স-মানি সফল হয়, তাহলে এটি শুধু এক্স-এর ব্যবসায়িক সাফল্য হবে না; এটি ডিজিটাল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ কাঠামোকেও প্রভাবিত করতে পারে। একসময় যেমন ইন্টারনেট মানুষের তথ্য ব্যবহারের পদ্ধতি বদলে দিয়েছিল, তেমনি ভবিষ্যতের সুপার অ্যাপগুলো মানুষের অর্থ ব্যবহারের পদ্ধতিও পরিবর্তন করতে পারে।
আগামী দিনে বিভিন্ন ফিনটেক কোম্পানি, ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক আর্থিক সেবার পরিসর আরও দ্রুত বিস্তৃত হবে। সেই পরিবর্তনের ধারায় এক্স-মানি-এর প্রতিটি পদক্ষেপ বিশ্বব্যাপী নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষিত হবে। যদি এক্স-মানি তার ঘোষিত দর্শন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং আর্থিক শৃঙ্খলা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে এটি ভবিষ্যতের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একটি নতুন মেরুকরণের সূচনা করতে পারে। শুধু একটি নতুন পণ্য নয়, বরং এটি ব্যাংকিংয়ের ধারণাকেই নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার মতো একটি যুগান্তকারী মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে। প্রচলিত শাখাভিত্তিক ব্যাংকিং থেকে ধীরে ধীরে প্রযুক্তিনির্ভর, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক আর্থিক ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হওয়া হয়তো সময়েরই অনিবার্য দাবি। এক্স-মানি সেই পরিবর্তনের অন্যতম অগ্রদূত হতে পারে যদি এটি নিরাপত্তা, নিয়ন্ত্রক অনুগত্য, স্বচ্ছতা এবং ব্যবহারকারীর আস্থা অটুট রাখতে সক্ষম হয়। ভবিষ্যৎ কী লিখে রেখেছে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে আমরা আশাবাদী উদ্ভাবন, প্রযুক্তি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির এই নতুন যাত্রা সফল হবে। সেই সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের প্রতীক্ষায় আমরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করব।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, শেলটেক ব্রোকারেজ লিমিটেড